স্নেহজাল - ইন্দ্রনীল সান্যাল Snehojal by Indranil Sanyal

স্নেহজাল - ইন্দ্রনীল সান্যাল Snehojal by Indranil Sanyal

বইঃ স্নেহজাল
লেখকঃ ইন্দ্রনীল সান্যাল
প্রকাশনায়ঃ দে'জ পাবলিশিং
প্রকাশকালঃ জানুয়ারি ২০১৯
প্রচ্ছদঃ সৌজন্য চক্রবর্তী
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৬০
ভারতীয় মূল্যঃ ২০০ টাকা

ওপার বাংলায় গোয়েন্দা উপন্যাসের ছড়াছড়ি হলেও, জুতসই পুলিশ প্রোসিডিউরাল, সাইকোলজিক্যাল/মেডিকেল থ্রিলারের বড্ড অভাব। আশার বিষয় বিগত এক-দু'বছর ধরে প্রেক্ষাপট বদলাচ্ছে। ইন্দ্রনীল স্যানালের বই যেদিন প্রথম আবিষ্কার করেছিলাম, সেদিনই কথাটা মনে হয়েছিল- ভীষণ রকমের আন্ডাররেটেড তিনি। তার লেখালেখির যে ব্যাপারটা আমাকে সবচেয়ে টানে, তা হচ্ছে বিষয়বস্তুর বৈচিত্রতা। মেডিক্যাল থৃলার যেরকম লেখেছেন, তেমনি এমন দু'টো উপন্যাস লেখেছেন, যার বিষয়বস্তু রান্না! সে'দুটোও চমৎকার 
যাহোক, কাজের কথায় ফিরি। স্নেহজাল। প্রধান দুই চরিত্র মোহর এবং চিনার। মোহর পেশায় ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট৷ যারা নিয়মিত ব্রিটিশ, মার্কিন কিংবা নর্ডিক থৃলার পড়েন, তাদের কাছে হয়তো শব্দটা পরিচিত৷ কিন্তু ওপার বাংলার কোন উপন্যাসে এই প্রথম সাইকোলজিক্যাল প্রোফাইলিংয়ের সফল ব্যবহার দেখলাম। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে সিরিয়াল কিলিং উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য, কিন্তু না। বেশ কয়েকটা লেয়ার আছে এই ১৬০ পৃষ্ঠার উপন্যাসটায়। চরিত্রগুলোও ওয়ান ডাইমেনশনাল নয়, বরং অল্পতেই আপন করে নেয়া যায়৷ শুরু থেকে শেষ অবধি আগ্রহ ধরে রেখেছিল। সেই সাথে স্যানাল সাহেবের ট্রেডমার্ক ডিটেইলিং তো আছেই। আক্ষেপ বলতে, তদন্তেরর প্যাটার্নে পশ্চিমা ছাপ একটু বেশিই পড়ে গেছে, লালবাজারের তদন্ত মনে হয়নি৷ তবে এটা গুরুতর কোন৷ বিষয় নয়।
আমি উপভোগ করেছি কাহিনীটা৷ তবে কিছু ব্যাপার সবার হজম না-ও হতে পারে। ফরেনসিক সাইক্রিয়াটিস্ট মোহর চ্যাটার্জির সাথে, খুনীর মনস্তত্ত্বকে পড়া যার কাজ। 


তদন্তে নামলো দুজন। মোহর চেষ্টা করছে খুনীর মগজটা পড়ে একটা চেহারা দাঁড় করানোর, চিনার খুঁজছে তার পরিচয়। দেয়ালে আরো টিক চিহ্ন পড়তে লাগলো, এবং প্রতিটি খুনের মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ। কিন্তু... মোহর জানে, কোথাও একটা ফাঁক রয়ে গেছে। জিগস পাজলের একটি টুকরো জায়গামত বসেনি।

এইটুকু পড়ে 'স্নেহজাল'কে ছকবাঁধা আরেকটি গতানুগতিক সিরিয়াল কিলিং থ্রিলারের কাতারে ফেলে দিলে ভুল হবে৷ গল্পটিতে মার্ডার মিস্ট্রির পাশাপাশি আরো কয়েকটি স্তর আছে। ধর্ষণজাত সন্তান গুড়িয়ার মা-বাবার সন্ধান, চিনার - মোহরের প্রেম গল্পটির রহস্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলেছে। শহুরে সমাজের মানুষগুলোর একাকিত্ব আর ডিপ্রেশন নিয়ে আরেকবার ভাবতে বাধ্য হবে পাঠক।

ইন্দ্রনীল সান্যাল বর্তমানে কলকাতার জনপ্রিয় লেখকদের একজন কেন, তার প্রমাণ পেলাম এবার। রহস্যটি খুব জটিল ছিল তা নয়, কিন্তু বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য গল্পকে তরতরিয়ে টেনে নিয়ে গেছে শেষ অবধি। ক্রিমিনাল সাইকোলজি নিয়ে এভাবে পদে পদে বিস্তারিত এগুনো থ্রিলার তেমন পড়িনি। লেখকের বর্ণনাভঙ্গি ঝরঝরে, বীভৎস খুনগুলো যথেষ্ট 'ডিস্টার্বিং' ছিল। সে অস্বস্তি কাটাতে চিনার - মোহরের প্রেম এবং মোহরের বন্ধু দয়াময়ীর রসিকতা সাহায্য করেছে।

বইটিতে ছাপার ভুল বিরক্তিকর পর্যায়ে ছিল। চরিত্রের নাম, সম্বোধন, বানান সব ক্ষেত্রেই অযত্নের ছাপ ছিল স্পষ্ট। প্রচ্ছদ বেশ পছন্দ হয়েছে, যুৎসই এবং অর্থবহ। এক কথায় জম্পেশ থৃলার।

রেটিং : ৮.৫ /১০

রিভিউটি লিখেছেনঃ 

স্নেহজাল
লেখক: ইন্দ্রনীল সান্যাল

অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল এই বই টা পড়ার। আজ শেষ করলাম এই উপন্যাসটি। 
আমার কাছে উপন্যাসটি রেটিং করতে বলবো 4 আউট অফ 5.
 উপন্যাসটি এক কথায় অনবদ্য। উপন্যাসটি একটি সিরিয়াল মার্ডার কেস উপরে লেখা, যেখানে একের পর খুন হয়েছে নৃশংস ভাবে। আর সেই কেস সমাধান করতেই নায়ক আর নায়িকা সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে প্রতি পদক্ষেপ। 
         এটা একটা মার্ডার কেস আর তার সমাধানের উপরের লেখা হলেও লেখক গল্পের শেষে তুলে ধরেছেন একজন নায়িকার জীবনের প্রতি মুহূর্তের ছবি। সাধারণত আমরা শুধু দেখতে পাই তার আলোকময় দিকটা। একজন নায়িকা কাজ না পেলে কতটা মানসিক চেপে থাকে , কাজ পাওয়ার ওজন বাড়াতে হয়,  তার ওজন বেড়ে গেলে সেটা কামাবার জন্য কি কি করতে হয় এবং সেই  কাজটি করতে গিয়ে কিছু পশু রুপি মানুষের সাথে পরিচয় হয় । এবং সেই মানুষ গুলো তাদের সার্থ চরিতার্থ না হলে কিভাবে ভয়ংকর হয়ে ওঠে পদে পদে তার সুন্দর উপস্থাপন করেছেন।
    লেখক এর পাশাপাশি তুলে ধরেছেন একজন দত্তক নেওয়া মেয়ের জীবন কতোটা কঠিন হয়। সমাজ তাকে পদেপদে অপদস্ত করে তার বায়োলজিক্যাল বাবা মায়ের পরিচয় না জানার জন্য। 
    এত কিছুর পরেও গল্পের মাঝে মাঝে নায়ক নায়িকার মধ্যে প্রেম আর তার প্রেমের গল্পঃ অনেকেটা খোলা হওয়ার মত এই রকম সিরিয়াস মার্ডার কেসর গল্পতেও। 
     একটি পয়েন্ট কাটলাম মাঝে মধ্যে কোথাও গল্পটাই ভিলেন চরিত্রটা দুর্বুল করে ফেলেছেন তাই। ওভারঅল একটা কমপ্লিট প্যাকেজ। কখনই পরে মনে হবেনা উপন্যাসটি পরে সময় নস্ট হলো। 
ধন্যবাদ 🙏।

রিভিউটি লিখেছেনঃ Soham Sengupta

পাঠ প্রতিক্রিয়া (reaction)
বইয়ের নাম: স্নেহজাল
লেখক: ইন্দ্রনীল সান্যাল

প্রথমেই বলি স্নেহজাল বইটি আমার পড়া এই লেখকের প্রথম বই। এই বইটি পড়ার আগে এই লেখকের "কর্কটক্রান্তি", "অপারেশন ওয়ারিস্তান" এইসব বইয়ের নাম শুনেছি। কিন্তু পড়ার সুযোগ হয়ে উঠছিলো না আমার। তারপর হঠাৎই "স্নেহজাল" বইটা চোখে পরায়, আর Genre "Thriller" দেখে পড়া শুরু করে দিলাম।

গল্পটি প্রধানত সিরিয়াল কিলিংয়ের উপর বেস করে। গল্পের নায়ক চিনার মিত্র (নামটা খুব সুন্দর লেগেছে) যিনি একজন প্রশাসনিক পোস্টে আছেন  আর নায়িকা মোহর চ্যাটার্জি, যিনি ফরেনসিক সাইক্রিয়াট্রিস্ট।
মোহর দিল্লিতে বড়ো হয়েছেন এবং তিনি একজন আডপ্টেড চাইল্ড। তিনি জানতে পারেন তার বায়োলজিক্যাল মা কলকাতায় থাকেন, কিন্তু কোথায় জানে না। আর সেই সময় কলকাতার পুলিশ কর্তা চিনার মিত্রর কাছ থেকে মোহরের ডাক আসে কলকাতায় একটি নৃশংস খুনের তদন্তের জন্য। তখনই সে ভাবে এই সুযোগে ওর মাকেও খুঁজে বার করবে। 

আর সেই একটি খুনের তদন্ত করতে গিয়ে কলকাতার বুকে আরও ৫ টি খুন ঘটে যায় প্রায় একই রকম ভাবে। প্রতিটা মৃত্যুকেই খুবই ভয়ানক ভাবে দেখানো হয়েছে। লেখক যেহেতু নিজে একজন পেশাগত ডক্টর। তাই, গল্পের মধ্যে মেডিকেল বিষয়ের দিকটাও বেশ সুন্দর ফুটিয়ে তুলেছেন। গল্পের মধ্যে খুন খারাপি, সন্দেহ, ছোটাছুটি এসব ছাড়াও একই স্রোতে বয়ে চলেছে মোহর আর চিনার প্রেম কাহিনী।

তবে যেকোনো জিনিসের ভালো খারাপ দুই দিকই থাকে। সেরকমই আমার মনে হয়েছে বইটিতে মেডিক্যাল টার্ম গুলো একটু বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। যেটা কিছুটা কম হলেও চলত। আর একটা ব্যাপার, গল্পের নায়িকা খুনের তদন্ত ছাড়াও আর একটি কারণে কলকাতা এসেছিল। তার বায়োলজিক্যাল মাকে খুঁজতে। কিন্তু কলকাতায় আসার পর নায়িকার যে মাকে খোঁজার চাহিদা সেটা একবারের জন্যেও সেই দিকটা লেখক তুলে ধরেন নি। তবে সবথেকে ভালো লাগলো গল্পের একদম শেষের চমকটা। যার জন্যই বইটির নামকরণ স্বার্থক হলো।

রিভিউটি লিখেছেনঃ তমাল ঘোষ

Post a Comment

0 Comments