দ্য সিক্রেট অফ দ্য পালামু ফোর্ট The Secret of the Palamu Fort by Razi

দ্য সিক্রেট অফ দ্য পালামু ফোর্ট The Secret of the Palamu Fort by Razi

বইয়ের নাম – দ্য সিক্রেট অফ দ্য পালামু ফোর্ট The Secret of the Palamu Fort
লেখক- রাজেশ জাইস Razi
প্রকাশক – Storymirror Infotech  
শ্রেনী- রহস্য রোমাঞ্চ 
 মূল্য- ২৯৯/- টাকা 
প্রথম প্রকাশ - ২০১৯ 
প্রচ্ছদ - Gopi Ovn 
পৃষ্ঠা - ২৬৪ 
বাঁধাই - পেপারব্যাক 


    ফেলুদাকে চেনেনা বা ফেলুদাকে ভালবাসেনা এমন বাঙালী বোধহয় হাজার খুঁজলেও পাওয়া যাবেনা। ফেলুদার সঙ্গে জড়িয়ে বাঙালীর কিশোরবেলার নস্টালজিয়া। সেই নস্টালজিয়ার স্বাদ যদি নতুন করে পেলাম স্টোরিমিরর থেকে প্রকাশিত The Secret of the Palamu Fort –উপন্যাসে।  

    ২৬৪ পৃষ্ঠার এই পেপারব্যাক বইটি Prologue ও Epilogue সহ ৪৪ টি অধ্যায়ে বিভক্ত। বইটির গ্লসি কভার পেজের ওপর অঙ্কিত অগ্নিবান নিক্ষেপরত এক যোদ্ধা, তলোয়ার বুকে পড়ে থাকা রক্তাক্ত শত্রু, মেঘে ঢাকা আকাশের তলা দিয়ে ছুটে যাওয়া ঘোড় সওয়ার---সব মিলিয়ে বইটার দিকে তাকালেই একটা গায়ে কাঁটা দেওয়া অনুভূতি হয়। সেই সঙ্গে বইটার সঙ্গে যে ইতিহাসের কোনো অধ্যায়ের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে তাও স্পষ্ট বোঝা যায়। সব মিলিয়ে প্রচ্ছদটি যথেষ্ট চিত্তাকর্ষক। 

      বইটির শুরুতেই লেখক তাঁর শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেছেন “লেজেন্ড” সত্যজিৎ রায়ের প্রতি। লেখক বলেছেন, “His vision and ideas inspire me so much that sometime I feel I am a Horcrux he never intended to make.”। লেখকের এই অকপট স্বীকারোক্তি যে কতখানি সত্য তার প্রমাণ আমরা প্রথম অধ্যায় থেকেই পেতে শুরু করি  যেখানে লেখক আমাদের পরিচয় করান নীল নামে এক কিশোরের সঙ্গে। সেই কিশোরের বর্ণনা, তার মনের অভিব্যাক্তি  মুহূর্তের মধ্যে আমাদের মানসপটে ভাসিয়ে তোলে একটা চরিত্র- সোনার কেল্লার তোপসে। দ্বিতীয় পরিচ্ছদে আমরা পাই লেখক Razi-র গোয়েন্দা রবিন হোড়কে। চরিত্রটির বর্ণনা কয়েক লাইন পড়লেই ফেলুদার কথা মনে আসতে বাধ্য। এই গল্পে জটায়ুও রয়েছেন, তাঁর নাম বাবুলাল ওরাঁও ওরফে টর্নেডো, একজন হিন্দিভাষী কবি যার ইচ্ছা একখানা জমজমাট গোয়েন্দা গল্প লিখবেন।

   এতদূর অবধি পড়ে মনে হতেই পারে যে ফেলুদার গল্প শুধু নাম পাল্টে লেখা। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। এই গল্পের শুরুই হচ্ছে সাড়ে তিনশো বছর আগের ঝাড়খণ্ডে। Prologue এর মধ্যেই আমরা প্রচ্ছদে অঙ্কিত যোদ্ধার হালকা আভাস পাই কিন্তু সেখানেই তার পরিচয় উন্মোচন হয় না।  তারপর প্রথম অধ্যায় থেকে গল্প আসে বর্তমানে, যেখানের মূল চরিত্র রবিন  বন্ধুপ্রতিম পুলিশ অফিসার প্যাট্রিকের অনুরোধে জড়িয়ে পড়েন এক অদ্ভুত রহস্যের মায়াজালে যেখানে সাড়ে তিনশো  বছর আগে মৃত এক ব্যক্তির প্রেতাত্মা এসে হত্যা করছে একের পর এক মানুষকে। সবাই যখন ভুতের ভয়ে সন্ত্রস্ত তখন রবিনের বিশ্বাস এটা ষড়যন্ত্র। খুনের জায়গা থেকে আবিষ্কৃত একটা ধাঁধা আর কিছু টুকরো সুত্রকে কেন্দ্র করে তরতর করে এগিয়ে যায় গল্প। রহস্য ঘনীভূত হতে থাকে ক্রমশ এবং রোমাঞ্চ বলতে যা বোঝায় গল্পটি পড়তে গিয়ে ঠিক সেই অনুভূতি হয়। 

  The Secret of the Palamu Fort-কে কিন্তু কোনোভাবেই ফ্যানফিকশন বলা যায় না। উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে চরিত্রদের মধ্যে হয়তো ফেলুদার চরিত্রদের বৈশিষ্ট পাওয়া যাবে, গল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে আসবে সত্যজিৎ রায়ের নাম, কিন্তু গল্প বলার ধরণ একদম নতুন। এমনকি ফেলুদার গল্পে যেখানে কথক তোপসে, এখানে লেখক নিজেই কথক। এমনকি ফেলুদার গল্পের মত এই উপন্যাস কিন্তু নারীচরিত্র বর্জিত নয়। গল্পের শেষ অংশে রয়েছে একটি  “অ্যাকশান সিন” যা লেখকের স্বতন্ত্র ভাবনার প্রকাশ। এই গল্পের অনেক ক্ষেত্রেই আবার নন-লিনিয়াল ন্যারেটিভও  ব্যবহৃত হয়েছে। প্লট মাঝে মাঝেই বর্তমান থেকে চলে গিয়েছে সাড়ে তিনশো বছর পূর্বের অতীতে। সেখানে সেখানে  গিয়ে গল্প বলেছে এক সাধারণ কিশোরের অসাধারণ হয়ে ওঠার, মৃত্যুর পরেও অমর হয়ে ওঠার। বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা সব মিলিয়ে অতীতের ওই চরিত্রগুলিও আমাদের মনে দাগ কাটতে বাধ্য। এই ঐতিহাসিক প্লটটাকে সাব-প্লট বলা যদিও ঠিক নয়, কারণ মূল প্লটের প্রয়োজনেই এই প্লটের আবির্ভাব; তবুও এই ঐতিহাসিক প্লটটা নিজেও একটা স্বয়ং সম্পূর্ণ গল্প যার নিজস্ব আবেদন রয়েছে।  

     সব মিলিয়ে উপন্যাসটি বেশ উপভোগ্য। তবে বাঙালী কিনা, তাই প্রতি মুহূর্তে ফেলুদার সঙ্গে মিল খুঁজতে ব্যস্ত ছিলাম। ওই করতে গিয়ে শেষের দিকের রোমাঞ্চটা ফেলুদার গল্পের রোমাঞ্চের তুলনায় খানিক ক্লিশে মনে হয়েছে। গল্পের চেয়ে ফেলুদার সিনেমার শেষ দৃশ্য হিসেবে কল্পনা করে ক্ষান্ত হয়েছি।  

   তবে পরিশেষে বলব, বইটা নিঃসন্দেহে উপভোগ্য। বাঙালী পাঠক ফেলুদার সাথে অতিরিক্ত তুলনা করতে গিয়ে আবেগের বশে হোঁচট খেতে পারে, তবে সাধারণ পাঠক হিসেবে পড়লে লেখকের নিজস্বতা প্রশংসনীয়, এবং গোয়েন্দা রবিন হোড়ের আরও রহস্য সমাধানের গল্প পড়ার জন্য আগ্রহ তৈরি হবে।

আমি বইটিকে দেব ৮.৫/১০।

রিভিউটি লিখেছেনঃ Sinchan Nohara

Post a Comment

0 Comments