মহাসাগরে ছোট্ট ভেলায় ৭৬ দিন by স্টিভেন কালাহান

মহাসাগরে ছোট্ট ভেলায় ৭৬ দিন by স্টিভেন কালাহান

বই: মহাসাগরে ছোট্ট ভেলায় ৭৬ দিন 
লেখক: স্টিভেন কালাহান 
অনুবাদ: শেখর বসু 
প্রকাশনা: পুনশ্চ পাবলিকেশন 

নাম শুনেই মোটামুটি ধারণা করা যায় প্রকৃতির সাথে বেঁচে থাকার লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার এ এক অসামান্য দলিল। স্টিভেন কালাহান স্পেন থেকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রার সময় সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়ে হারান তাঁর একান্ত প্রিয় নেপোলিয়ন সোলো বোট-কে, রবারের ভেলাতে কোনোরকমে কিছু সামগ্ৰী নিয়ে উঠে নিজেকে রক্ষা করেন। কখনো বৃষ্টির জল বা পরিশ্রুত জল পান করে, মাছ শিকার করে, ঝড়-ঝাপটা সামলে স্রোতের টানে এগিয়ে চলেন। মাঝে মাঝে জাহাজের দেখা পেলেও নাবিকদের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হন। ধুঁকতে ধুঁকতে অবশেষে ৭৬ দিনের মাথায় স্থলভূমির কাছে পৌঁছে মানুষের দেখা পান,  আটলান্টিক মহাসাগরে বেঁচে থাকার লড়াইতে জয়ী হন‌, পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠেন।
রেটিং: ৯/১০

তমাল ঘোষ এর আরো একটি রিভিউঃ
বই - Adrift: Seventy-six Days Lost at Sea
লেখক - Steven Callahan

এই বইটির নাম (মহাসাগরে ছোট্ট ভেলায় ৭৬ দিন) এবং বিষয়বস্তু কয়েকদিন আগে দেওয়া এই গ্রুপের এক রিভিউ থেকে আমি জেনেছি। আমি এইধরনের কিছু Survival related বই পড়েছি। তবে এই বইটা তাদের মধ্যে অন্যতম।

এটি একটি Survival Story যেটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে। স্টিভেন কালাহান তার সঙ্গী ক্রিসের সাথে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়েছিলেন তার বানানো নৌকায় চড়ে যার নাম দিয়েছিলেন "NAPOLEON SOLO". কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটে আবার ফিরে আসার পথে। ওইসময় আবার তার সঙ্গীও সাথে ছিলো না। অর্থাৎ আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে কলাহানের সঙ্গী হিসাবে রয়েছে তার বানানো 'নাপোলেয়ন সোলো"।। কিন্তু সেই সঙ্গীটিও হাতছাড়া হয়ে যায়। তখন একমাত্র সাথী হয় একটি রবারের ভেলা। যেটার নাম দিয়েছিলেন "Ducky"।।

এই ডাকিতে চড়েই ৭৬টা দিন কাটিয়েছেন তিনি। ওই মুহূর্তে বেচেঁ থাকার জন্য যে রসদ, সেটা তিনি প্রকৃতির মধ্যে থেকেই খুঁজে নিয়েছেন। কাঁচা মাছ ধরে খাওয়া, বৃষ্টির জল সঞ্চয় করে খাওয়া, শেষের দিকে দু একটা পাখি শিকার করে তার মাংস খাওয়া সব কিছুই তিনি বেচেঁ থাকার জন্য করেছেন। এমনকি পেন্সিল দিয়ে "Pencil Sextant" বানিয়েছেন দিক নির্ণয়ের জন্য।

অবশেষে ৯টির মতন জাহাজ চোখের সামনে দিয়ে চলে গেলেও নিজের ভাগ্য ও মনের জোড়ে ৭৬তম দিনে তিনি ডাঙায় পা দেন। এই বইটা পড়ে একটা জিনিস উপলদ্ধি করা যায় যে, আমাদের বাসস্থান, খাবার, বন্ধুবান্ধব, পরিবার সবকিছু থাকার পরেও কোনো এক তুচ্ছ জিনিস না পাওয়ার জন্য আমরা কষ্ট পাই। সেখানে একটি মানুষ কিভাবে 76 টা দিন কাটিয়ে দিলো।

সব শেষে বলি, আমি যেহেতু ইংলিশ বইটা পড়েছি, সেখানে বেশ সুন্দর করে সব কালাহানের নিজের হাতে আঁকা অনেক ছবি আছে, যে কারনে পড়তে সুবিধা হয়েছে। যেমন "Sextant" যন্ত্রটা কিভাবে কাজ করে, সেটা সুন্দর করে এঁকে দেখিয়েছেন। তবে এই সুবিধাটা বাংলা অনুবাদ বইটাতে নেই দেখলাম। আপনারা চাইলে ইংলিশ বইটাও পড়ে দেখতে পারেন।

Post a Comment

0 Comments