বৃশ্চিক - পিয়া সরকার Brishchik by Pia Sarkar

বৃশ্চিক - পিয়া সরকার Brishchik by Pia Sarkar

উপন্যাস - বৃশ্চিক
লেখিকা - পিয়া সরকার
পত্রিকা - একচালা আনারিমাইন্ডস পত্রিকা ১৪২৭ 

     গল্পের শুরু অতীতের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। জানুয়ারি ২০০২ শীতকালের সকাল। সবে সাড়ে ছটা বাজে। চন্দননগর স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাড়িয়ে রয়েছে শতদল। ছটা পঁয়ত্রিশের হাওড়া বর্ধমান লোকাল অ্যানাউন্স করতে দেরি হচ্ছে আজ। হাতঘড়িটায় চিন্তিতভাবে তাকায় শতদল। ফার্স্ট ক্লাসটা মিস হবে আজ তার। পাবলিক অ্যাড্রেসাল সিস্টেমের যান্ত্রিক মহিলা কন্ঠ ভেসে আসে " 22387 আপ হাওড়া - ধানবাদ ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস ইজ কামিং অন প্ল্যাটফর্ম নম্বার টু। দ্য ট্রেন এ থ্রু ট্রেন। কাইন্ডলি এ সেফ ডিসট্যান্স।" বিরক্ত লাগে শতদলের বর্ধমান লোকালটার কী হল! হঠাৎ কতগুলো চিৎকারে মাথা ঘুরিয়ে তাকায় সে এক অদৃশ্য স্রোত এসে ওকে যেন উপরের দিকে ঠেলে দেয় মাটিতে পড়তে গিয়ে আবার এক স্রোতের মুখে পড়ে শতদল। প্ল্যাটফর্ম  ঝাঁট দেওয়া বন্ধ করে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে রামশরণ। 

বর্তমান ঘটনা- সদ্য মেডিকেলে চান্স পাওয়া দুর্দান্ত মেধাবী ছাত্রী মৌপিয়া হালদারের মৃতদেহ শনাক্ত করা হয় বিশাল ধান ক্ষেতের ঠিক মধ্যিখানে থাকা একটা পাম্প হাউস থেকে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট থেকে জানা যায় কোনো ভারী বস্তুর দ্বারা মাথায় আঘাত করার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো মৌপিয়াকে মৃত্যুর পর ধর্ষন করা এবং তা ছিল নন বায়োলজিক্যাল। মৌপিয়ার সাথে বিধানের একটি সম্পর্ক তৈরী। মৌপিয়ার বাবা বর্ধমানের একজন পলিটিক্যাল লিডার, মেয়ের সাথে বিধানের সম্পর্কে তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন। এদিকে পাম্প হাউসের অপারেটর জামাল সর্দার জানায় সকালে পাম্প হাউসের জানালার  সামনে বিধানকে সে উঁকিঝুকি মারতে দেখেছে। হত্যার তদন্ত করতে নেমে ইনভেস্টিগেটিং অফিসার দর্শনা একের পর এক রহস্যের সন্মুখীন হয়। কে বা কারা এই সদ্য যুবতী মেয়েটিকে এত নৃশংস ভাবে খুন করলো তার উওর কী খুঁজে পাবে দর্শনা? অতীতে সেই দিন কী ঘটেছিল শতদলের সাথে?

লেখিকা পিয়া সরকার উপন্যাসটির রহস্যের জায়গা গুলি সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছেন। বিশেষ করে ফরেনসিকের বর্ণনা গুলি খুব ভালো লেগেছে পড়তে। ক্রাইম মার্ডার মিস্ট্রি পড়তে চাইলে উপন্যাসটি পড়তে পারেন ভালো লাগবে।

আরো একটি রিভিউঃ
বই - বৃশ্চিক
লেখিকা - পিয়া সরকার

  অনেকদিন পর একটা ক্রাইম থ্রিলার পড়লাম যার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপভোগ্য, টানটান। উপন্যাস এর প্রধান চরিত্র ইন্সপেক্টর দর্শনা বোস যাঁর দায়িত্বে পড়ে কৃতী ছাত্রী মৌপিয়া হালদার এর রহস্যজনক খুনের তদন্ত। পুলিশি তদন্তই এই উপন্যাস এর প্রাণ । লেখিকা রাজনীতি, পরিবার, সম্পর্ক, প্রতিহিংসা , খুনীর সাইকোলজির অপূর্ব মিশেল ঘটিয়েছেন। ভাষার ব্যবহার, চরিত্র বিন্যাস অসাধারণ। রহস্যের বুনন কোথাও আলগা হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে আমার উপন্যাস টি ভালো লেগেছে। যাদের ক্রাইম থ্রিলার ভালো লাগে তারা পড়ে দেখতে পারেন।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Rupa

একই নামে অন্য আরেক বইয়ের রিভিউঃ 

বইয়ের নাম- বৃশ্চিক (একটি রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনী সংকলন) 
প্রকাশনা - অরণ্যমন প্রকাশনী 

আমি বরাবরই রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনীর একনিষ্ঠ পাঠক। তাই যখন লোকমুখে শুনলাম বৃশ্চিক বইটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে তখন কিনতে দেরি করিনি। প্রথমেই বলা উচিত যেটা সেটা হচ্ছে পৃষ্ঠার গুণগত মান।  সাদা ধবধবে সুন্দর পাতার উপর গোটা গোটা অক্ষরের ছাপা শব্দ পড়তে অত্যন্ত সুবিধা হয়েছে।  এবার আসা যাক গল্পে।  

বরফ পাহাড়ের আগুন:- সৈকত মুখোপাধ্যায় বর্তমান বাংলা সাহিত্য জগতের পরিচিত লেখক। তাঁর এই গল্পটি কোনো রহস্য কাহিনী নয় বরং রোমাঞ্চ কাহিনী বা অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী বলা চলে। ইন্ডিয়ান আর্মির অপারেশন নিয়ে বেশ টানটান অ্যাকশন থ্রিলার। 

সীমানা:- এইচ.আর.ওয়েকফিল্ড এর লেখা "দ্য ফ্রন্টিয়ার গার্ডস" গল্পের ভাষান্তর করেছেন তমোঘ্ন নস্কর। এটি একটি ছোট হরর গল্প হলেও ভয় খুব একটা পাবে না। তবে ছোটোর মধ্যে বেশ ভালো।  

খুঁত:- পার্থ দে এর লেখা এই গল্পটি বেশ ভালো লাগলো রহস্য গল্প হিসাবে।  তবু ছোটো খাটো খুঁত থেকে যায় যেমন কারুর মোবাইল থেকে call history ডিলিট করলেই কি পুলিশ আর সেই ফোনকলের কথা জানতে পারে না নাকি? খুব বোকা বোকা এটা। 

মীন :- দীপিকা মজুমদার এর একটি মোটামুটি রহস্য গল্প এটি। আপাতদৃষ্টিতে যাকে অপরাধী লাগে, গল্পের শেষে সেই যখন অপরাধী হয় তখন পাঠকের গল্প পড়ার আগ্রহ মিইয়ে যায়।  লেখিকা সত্যিই হতাশ করেছেন।  

পড়শি:- রিচার্ড ম্যাথেসন এর লেখা "দ্য ডিস্ট্রিবিউটর" গল্পের ভাষান্তর করেছেন সৌভিক চক্রবর্তী। এই গল্পটি অসাধারণ লেগেছে। কিভাবে ছোট ছোট সন্দেহ আর ছোট ছোট মিথ্যে একটা শান্তিপূর্ণ জায়গাকে কয়েকদিন এ ছার/খার করতে পারে তারই গল্প এটি। 

পূর্ণিমা :- অদিতি সরকারের এই গল্পটি বেশ রোমাঞ্চকর। তবে গল্পের মূল প্লটটি একেবারেই নতুন না। এইরকম গল্প অজস্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বাংলা এবং বিশ্বসাহিত্যে।  

স্বপ্ন বাড়ি:- আগাথা ক্রিস্টির "দ্য হাউজ অফ ড্রিমস" এর ভাষান্তর করেছেন পিনাকী মুখোপাধ্যায়।  গল্পটির original version আমার আগেই পড়া।  এই ভাষান্তরটি মূল গল্পের তুলনায় অনেক বেশি রোমাঞ্চকর ও আকর্ষণীয় করে লেখা হয়েছে।  পিনাকী মুখোপাধ্যায় নিজস্বতার ছাপ রেখেছেন।  

কাঠিবাবু:- সায়ন্তনী পূততুন্ড এর অধিরাজ সিরিজ সেরম ভালো লাগে না আমার কোনদিনই।  কিন্তু এই গল্পটি মন ছুঁয়ে গেল।  

কালযাত্রী:- রবার্ট এ হাইনলাইন এর লেখা "অল ইউ জম্বিস" এর ভাষান্তর করেছেন অভীক মুখোপাধ্যায়। অসাধারণ একটি রোমাঞ্চকর সায়েন্স ফিকশন গল্প।  

মামলার শেষে:- সৌরভ চক্রবর্তীর এই গল্পটি রহস্য গল্প হিসাবে একদম উপযুক্ত।  গল্পের শেষ টুকু অসাধারণ।  

নেকড়ে:- রন উইঘেল এর " শ্যাডো অফ দ্য উলফ" এর ভাষান্তর করেছেন ঋজু গাঙ্গুলী। মন্দ লাগেনি।  

সপ্তম স্বর্গ:- সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের এই গল্পটি প্রবাদ বাক্যে ব্যাখ্যা করতে গেলে হবে " ওস্তাদের মার শেষ রাতে"। পুরো বইয়ের মধ্যে এই গল্পটিই সেরা লেগেছে।  বেশ ভয়াল।  বাকি গল্পগুলোর মান এরম হলে ভালো লাগতো। 


Post a Comment

0 Comments