ডিরোজিও - অভীক মজুমদার

ডিরোজিও - অভীক মজুমদার

বইয়ের নামঃ ডি রোজিও





লেখকঃ অভীক মজুমদার




প্রকাশনীঃ বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে




প্রকাশকালঃ ২০১২




পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪৮




সাইজঃ ২ এমবি




ফরম্যাটঃ পিডিএফ




টেক্স ফরম্যাটঃ এইচডি স্ক্যান




রেজুলেশনঃ ৬০০ ডিপিআই




বইয়ের ধরণঃ জীবনী



[caption id="" align="aligncenter" width="240"]ডিরোজিও - অভীক মজুমদার ডিরোজিও - অভীক মজুমদার[/caption]





ডিরোজিও



সমাজের প্রভাবশালী গোঁড়া হিন্দুদের পরিচালিত ‘হিন্দু কলেজের’ শিক্ষার্থীরাই একসময় সর্বত্র ধর্মীয় কুসংস্কার গেয়ে বেড়ান। ভাবতে পারছেন? এখনকার দিনেই এসব কল্পনা করা যায় না, অথচ উনিশ শতকের শুরুর দিকে এমন অভাবনীয় কাণ্ড ঘটিয়েছেন ডিরোজিও! কিন্তু কিভাবে? তিনি মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন সমাজের পরিবর্তন। তিনি ইউরোপীয় হলেও তৎকালীন শাসন ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। লিখেছেন ইংরেজ শাসনের কুফল সম্পর্কে, কৌশল বাতলেছেন ইংরেজ শাসনের ভীত ভেঙ্গে দেয়ার। তবে কেন মানুষ তাকে গ্রহণ করবে না?


কিন্তু তাই বলে সবাই তাকে সাধুবাদ জানায়নি। বরং স্বার্থে আঘাত লাগায় ফেটে পড়েছিল তৎকালীন হিন্দু সমাজ। নানা দুর্নাম রটতে থাকে ডিরোজিও এবং ইয়ং বেঙ্গলের বিরুদ্ধে। স্বার্থান্বেষী এবং ভীরুদের কলিজা কেঁপে ওঠে। তারা ভয় ডিরোজিওর এই বিপ্লবকে। তাই বলে মুহূর্তের জন্য থেমে থাকেন নি ডিরোজিও, ভয় পাননি কাপুরুষদের চোখ রাঙ্গানি। তবু ১৮৩১ সালের ২৩ এপ্রিল  কলেজ কমিটি বিশেষ মিটিং ডাকে। সেখানে আলোচনা হয় ডিরোজিওকে বহিষ্কার করা নিয়ে। ৯ সদস্যের ৬ জন ডিরোজিওর পক্ষে এবং ৩ জন বিপক্ষে মতামত দেন। তবু হিন্দুসম্প্রদায়ের কাছে নতিস্বীকার করে সবাই। হিন্দু কলেজ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। তার পদত্যাগের সাথে সাথে কলেজে আইন প্রণয়ন করা হয় যে, কোন ছাত্র ডিরোজিওর সাথে কোন ধরণের যোগাযোগ করতে পারবে না। তবু কি তার ভক্তদের আটকে রাখা গিয়েছিল? উত্তর একটু পরেই পাওয়া যাবে।


কলেজ থেকে পদত্যাগের কিছুদিন পর ১৮৩১ সালের ১৭ই ডিসেম্বর তিনি কলেরায় আক্রান্ত হন। সে বছর কলকাতায় কলেরা ভয়ানক আকার ধারণ করেছিল। অসুস্থতার পর তার ভক্তরা সারাক্ষণ তার পাশে থেকে সেবা করেন। রাত-দিন তার চারপাশে ঘিরে বসে থাকেন। কলেরা সংক্রামক, তবু তারা একে তুচ্ছ জেনে প্রিয় মানুষটিকে পরম ভালবাসায় জড়িয়ে রাখলেন। কিন্তু ৯ দিন পরে ২৬ এপ্রিল তিনি ভক্তদের একা করে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তখন তার বয়স হয়েছিল মাত্র ২২ বছর ৮ মাস ৮ দিন।


মাত্র ২২ বছরের এই তরুণ যা করে গেছেন তার জন্য পৃথিবী তাকে আজীবন স্মরণ রাখবে। পৃথিবী স্মরণ রাখবে একজন বিপ্লবীকে।



Previous
Next Post »
iklan banner